লিপস্টিক ও ডিওডোরান্ট
ফ্লাস্ক
থেকে দু’কাপ চা বার করে ফ্লাস্কটা বন্ধ করতে করতে আমাকে উদ্দেশ্য করে অর্ক বলল-
“আচ্ছা বল তো ডিওডোরান্ট বলে কারোর নাম হতে পারে?” আমি তো শুনে থ! বললাম, ডিও, মানে ডিওস্প্রে ? কি সব যা’তা বলছিস ? এখন
মজা করার সময় তোর ?” আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে এক কাপ চা
আমার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে ও বলল “তোর মৈনাক নামটা যদি
আমার আর জ্যেঠুর কাছে মানিকচাঁদ হতে পারে, তবে সেটাও কেন
হবে না? এই নে চা খেতে খেতে ঘটনাটা মন দিয়ে শোন, জানি গত দুদিন ধরে অপেক্ষা করছিস!” আমি এতক্ষণ
যেন এই কথাটা শোনার অপেক্ষাতেই ছিলাম। দেওয়াল ঘড়িতে রাত্রি ন’টা বাজতে পাঁচ। আজকেও প্রায় একঘণ্টা ধরে আমাদের এ অ্যান্ড এম
কন্সালটেন্সীর অফিস ঘরে অপেক্ষা করে বসে আছি ও’র জন্য,
অথচ বাবুর কোন পাত্তা নেই। আজ বুধবার, গত
দুদিন ধরে প্রত্যেকদিন আমি অফিস থেকে ফিরে আমাদের চেম্বারে এসে আমি একা একাই
ধূপধুনো দিয়ে ফিরে গেছি, বাবুর কাজের চাপে এখানে আর আসা
হয় নি। আমারই দেওয়া একটা কেসের তদন্তে বাবু এখন ভীষণ ব্যস্ত, তাই আমার সাথেও কথা বলা বা দেখা করার সময় নেই।