বিস্মিল্লাহ্
শীতের শেষে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা ছেয়ে আছে চারিদিকে,
এই সকাল বেলাটায়। পাহাড়ের কোলের এই গ্রামটাতে তো আরো অনেক বেশি। মনে হচ্ছে কোনো চিত্রকারের তুলিতে আঁকা স্বপ্নালু এক ফোটোফ্রেম। প্রকৃতির কোলে সঁপে দেওয়া এক নিরব, বিচ্ছিন্ন নীল আকাশের নিচে গরীব একটা
গ্রাম। সুন্দর একটা গ্রাম। কাবুল থেকে প্রায় দেড়’শ কিলোমটার দূরে জালালাবাদের এই
গ্রামটাতে খুব বেশি বসতি নেই। নেই জীবনের ব্যস্ততাও। তাই বোধহয় এত শান্ত, এত স্নিগ্ধ।
চারিদিক সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড়ের পাদদেশ, দূরে সূর্যের আলোয় মুক্তর মতো জ্বলতে থাকা
হিন্দুকুশ পাহাড়ের শিখরে দুধ-সাদা বরফ, আর দূ্ষণমুক্ত স্নিগ্ধ শীতল বাতাস এক অপরূপ
রোমাঞ্চ জাগিয়ে চলেছে বিস্মিল রুকসাতের মনে। গত পোরশু থেকে। এই গ্রামেতে বিয়ে হয়ে
এসেছে সে দুদিন আগে। তিন কিলোমিটার দূর, এর পাশের গ্রামেই তাদের গ্রাম, তবে তার
শ্বশুরবাড়ির এই গ্রামটার মতো এত সুন্দর নয়। বিস্মিলের মন চাইছে ভীষণ খুশি হতে
কিন্তু মস্তিস্ক বাঁধা দিয়ে চলেছে অবিরাম। এই ঘরে আসার পর থেকে সে তার স্বামীকে
দেখে নি এখনো। শুনেছে, নাকি শহরে গেছে কোনো কাজে। তবে অজানা তো ছিল না তার কিছুই।
বিলাল কারজাই তাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে। বিলালের একটা আট বছরের মেয়েও আছে। এ সবকিছু সে জানতো। বিস্মিল রুকসাতের বয়স একুশ এখন, আর বিলালের একচল্লিশ। তাতে আপত্তি তো কিছুই ছিল না বিস্মিলের। হয়তো আপত্তি শব্দটার সঙ্গে পরিচিত নয় সে। কিম্বা এই শব্দটার অর্থ আফগান মেয়েদের শেখানো হয় না। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়েছে বিস্মিল। তারপর পড়েছে কোরান। কারন ওটারই অনুমতি ছিল। বোরখার আড়ালে এতদিন ধরে সে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে স্বামীর যোগ্য এবং সফল সম্ভোগ্য হিসাবে। যা তার এ জন্মে আর পরজন্মে বেঁচে থাকার একমাত্র লক্ষ। তবুও সে খুশি হতে পারছে না কেন। গতকাল রাতে সে বিলালের মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিল, -‘রাজিয়া, তুমি স্কুলে যাও? উত্তরে সে বলেছিল-‘আমি স্কুলে যেতে চাই না নতুন আম্মি। তুমি আর ওসব কথা বোলো না। তুমি আমায় ছেড়ে যেও না’।
বিলাল কারজাই তাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে। বিলালের একটা আট বছরের মেয়েও আছে। এ সবকিছু সে জানতো। বিস্মিল রুকসাতের বয়স একুশ এখন, আর বিলালের একচল্লিশ। তাতে আপত্তি তো কিছুই ছিল না বিস্মিলের। হয়তো আপত্তি শব্দটার সঙ্গে পরিচিত নয় সে। কিম্বা এই শব্দটার অর্থ আফগান মেয়েদের শেখানো হয় না। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়েছে বিস্মিল। তারপর পড়েছে কোরান। কারন ওটারই অনুমতি ছিল। বোরখার আড়ালে এতদিন ধরে সে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে স্বামীর যোগ্য এবং সফল সম্ভোগ্য হিসাবে। যা তার এ জন্মে আর পরজন্মে বেঁচে থাকার একমাত্র লক্ষ। তবুও সে খুশি হতে পারছে না কেন। গতকাল রাতে সে বিলালের মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিল, -‘রাজিয়া, তুমি স্কুলে যাও? উত্তরে সে বলেছিল-‘আমি স্কুলে যেতে চাই না নতুন আম্মি। তুমি আর ওসব কথা বোলো না। তুমি আমায় ছেড়ে যেও না’।
বাচ্চা মেয়েটির কথাটা বিস্মিলের কাছে খুব একটা পরিস্কার
হয় নি। তবে যেটা সন্দেহের কারন
তাহল, সে জেনেছিল কোনো কারনে বিলালের প্রথম স্ত্রী মারা গেছে। তবে কি সেটা সত্যি
নয়? স্বামী আর মেয়ে ছাড়া এই ঘরে আরও দুটো মানুষ আছে। তারা হলো, বিস্মিলের শ্বশুরমশাই
এবং শ্বাশুড়িমা। তাদের এই মাটির
বাড়িটা গ্রামের একদম শেষে। দূরে দেখা যায় মরুভূমির মতো ধু ধু ফাঁকা মাঠ। সামনের
খালি জায়গায় ধুলো উড়িয়ে ছেলেদের ক্রিকেট খেলতে দেখে সে। প্রায় সব বাড়িই এখানে একতলা।
কোনো কোনো ইটের তৈরী দুতলা বাড়িও আছে। তবে সব ঘর গুলোর সাথে সাদৃশ্য একটাই, তা হল মাটির
পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। মহিলারা সর্বদা ঘরের ভিতরে থাকার চেষ্টা করে এখানে। বিস্মিলের
শ্বাশুড়িমাও তাই করেন।
এখন এই সকাল বেলায় বিস্মিল বসে আছে তার শ্বশুরমশাইয়ের সাথে। বয়স তাঁর সত্তরের ওপরে। খুব সাধারন এবং শান্ত
প্রকৃতির মানুষ উনি। বিস্মিল অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে। উত্তর পায় নি। তবুও
আরো একবার তার শ্বশুরমশাইকে জিজ্ঞেস করলো,-‘তারপর কি হলো বলো না আব্বা’? এই দু
দিনে তার শ্বশুরমশাই তাকে চিনে ফেলেছেন। তিনি খুব খুশি বিস্মিলকে তার পুত্রবধু
হিসাবে পেয়ে। খুশি এইজন্য যে তাঁর নাতনি আবারও এক ভাল মা পেয়েছে। সকালের শান্ততা
চাইরিদিকে। সিরসির করে ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসছে পাহাড় থেকে। বিস্মিল আবার
বললো,-‘আব্বা আপনি চুপ করে আছেন কেন? আমি সব জানতে চাই, বলুন তারপর কি হলো’? গরম
কাব্য়াতে একটা চুমুক দিয়ে বিস্মিলের দিকে তিনি তাকালেন একবার। কিছুক্ষণ পর একটা
দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,-‘তারপর আর কি..., এমনই একটা সকাল। সারা মহল্লা জড়ো হয়েছে ঐ রাস্তার চৌমাথার মোড়ে। গোটা গ্রামের সমস্ত মানুষ।
ছেলে-মেয়ে-জোয়ান-বুড়ো-বাচ্চা-বউ সবাই। রাজিয়ার মাকে বাঁধা হয়েছে একটা মোটা
খুঁটিতে। বিলাল নিজের হাতেই বেঁধেছে তার বউকে। শুধু বোরখার মুখের কাপড়টা খোলা ছিল। যাতে সবাই দেখতে পায় ওমন এক
নষ্টা মেয়েকে। গ্রামের তালিবান মোড়োলদের আদেশ ছিল, যে যেমন খুশি তাকে শাস্তি দিতে পারে।
মোটা এক লাঠি দিয়ে বিলালের দুশ্চরিত্র স্ত্রীকে মারার হুকুম হলো। গ্রামের সকলের সামনে। আদেশ ছিল ততক্ষন ঐ মেয়েটিকে মারতে থাকার যতক্ষন পর্যন্ত সে জ্ঞান না হারায়। তার
নিজের স্বামীও তাকে মারতে ছাড়ে নি।
বিলাল কাবুলে যেত ব্যবসার খাতিরে। তখন ওর বয়স আর কত?
তিরিশের মতো হবে। কি করতো, কোথায় যেত? কিসের ব্যবসা করতো আমি কিছুই জানতাম না।
কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিত না। জোর করলে আমার সঙ্গে খারাপ আচরন করতো। একদিন বিয়ে
করে নিয়ে এলো রাজিয়ার মাকে। কাবুল থেকে। মেয়েটা আমার খুব সুন্দরী ছিল। তারপর তোমার
আম্মি খুব খুশি হয়েছিল সেদিন আরও একবার, যেদিন দু বছর পর রাজিয়া জন্মেছিল। তারপর
আরও কতকিছু ঘটে গেছে এর মধ্যে।
সেদিন আমি দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম ভীড়ের পাশে। করার আমার ছিল না কিছুই। পশুর মতো মেরে চলেছিল মেয়েটাকে ওরা। মুখে কোনো শব্দ ছিল না বেচারির। কোনটা চোখের পানি আর কোনটা রক্ত বোঝাই
যাচ্ছিল না। তবে ঝরছিল দুটোই। কেউ কেউ পাথরও ছুঁড়ে মারছিল। তুই তো জানিস মা,
এমনটাই হয় আমাদের এখানে। আরও কিছুক্ষন মারতে থাকলে হয়তো মেয়েটা মরেই যেত। আমি গিয়ে
সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে ওকে ঘরে এনেছিলাম। সমস্ত শরীরে রক্তের থানা জমে গিয়েছিল।
হয়তো ভেঙে গিয়েছিল পাজরের কয়েকটা হাড়ও। পুরুষ ডাক্তারের অনুমতি ছিল না চিকিৎসা
করার। গাছ-গাছালির রস খেয়ে পড়েছিল সে সারাটা রাত।
গ্রামের লোকজনের অভিযোগ ছিল, তাকে নাকি গ্রামের
স্কুল শিক্ষকের সাথে বার বার কথা বলতে দেখা গেছে। একা। শেষদিন দেখা গিয়েছিল তাকে
শিক্ষকের ঘর থেকে বের হতে। আমি জানি, তার আপরাধ ছিল এই যে, সে রাজিয়াকে শিক্ষিত
করতে চেয়েছিল। পড়াতে চেয়েছিল আরও অনেক বেশি। পরের দিন খুব ভোরে বিলালের বন্দুক
দিয়ে নিজের মাথাটা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল সে। সবাই মিলে
সেদিন দাফন সেরে ফিরে এসেছিল এক নিরাপরাধ মেয়ের। আরও একটা আফগান মেয়ে কুরবান
হয়েছিল সেদিন’।
বিস্মিল আর একটিও কথা বলে নি। তার শ্বশুরমশাইয়ের চোখের
দিকে তাকিয়ে বুঝলো, উনি খুব দুখিঃত, কিন্তু করার কিছু নেই ওনার। ছোটবেলা থেকে সে
দেখে এসেছে এখানে মেয়েদের বেঁচে থাকার অধিকার কতটুকু, স্বাধীনতা কতটুকু। তবে এই
শব্দগুলোর সঠীক অর্থ সে অনুভব করতে পারে না। কারন সেই অনুভূতির জায়গা তাকে কোনোদিন
করে দেয় নি কেউ। তবুও বুকের ভিতর এক যন্ত্রণা সে অনুভব করছে। শুধু এটুকু বুঝতে
পারছে, রাজিয়ার মায়ের সঙ্গে যা হয়েছে তা ভাল নয়। এবং বিলালের মতো মানুষগুলোও ভাল
নয়। বিস্মিল এবার বলে উঠলো,-‘আব্বা, আপনি আপনার ছেলেকে কিছু বলেন নি কেন?
এক শূন্য দৃষ্টিতে বিস্মিলের দিকে তাকালেন তিনি।
তারপর বললেন,-‘এই বুড়ো মানুষের কথার কি আর কোনো জোর আছে রে...মা। এরা তো শুধু
গোলা-বারুদ-বম আর বন্দুকের ভাষা বোঝে। ধীরে ধীরে তুইও সব জানতে পারবি’।
-না আব্বা, আমি আরও জানতে চাই। এখনই জানতে চাই। আপনি
বিলালের কথা বলুন’।
বিস্মিল আজ নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করতে চাইছে।
তার চোয়ালের মাংসপেশী কেমন যেন শক্ত হয়ে উঠছে আজ। সে আবার তার শ্বশুরমশাইকে জোর
করলো। ততক্ষণে কাপের কাব্য়া শেষ। বিস্মিলের চোখের দিকে তাকিয়ে উনি বললেন,-‘বিলাল
মোটেই ভাল লোক নয় রে মা। সঙ্গদোষে অনেক খারাপ রাস্তায় চলে গেছে। অনেকদিন আগে থেকে।
আর এদের মাথায় যারা দিনের পর দিন হিংসার পোকাগুলো ঢোকাচ্ছে তাদের মুখও কেউ দেখতে
পায় না এখানে। তেহ্রিক-ই-তালিবান নামে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে বিলাল যুক্ত আছে। এ মহল্লার সবাই জানে
তা। তালিবানের আদেশ এখানে সবার উপরে। আজ থেকে দু বছর আগে পাকিস্তানের পেশাওয়ারে এক
স্কুলে ঢুকে ফুলের মতো বাচ্চা বাচ্চা শিশুদের উপর গুলি চালিয়েছিল এরা। সাত জন
আতঙ্কি। বিলাল তাদের ট্রেনিং
দিয়েছিল। একশ চলিশটা বাচ্চাকে
বন্দুকের গুলিতে ঝাঁজরা করে দিতে ওদের একটুও হাত কাঁপে নি সেদিন। এমন আরও অনেক মানুষকে মেরে চলেছে এরা, প্রতিদিন।
কিসের বদলা জানি না মা, ছোট্ট ছোট্ট নিরাপরাধ শিশুদের মেরে কার বিরুদ্ধে এ লড়াই,
কিসের জেহাদ জানি না তাও, শুধু এটুকু জানি ধর্মের নামে মানুষকে হত্যা করতে এরা
পশুদেরও আগে’। বিস্মিল আর কিছু জানতে চাইলো না। তার চোখ ধিরে ধিরে লাল হয়ে যাচ্ছে। তবে
সে লালিত্ব রাগে, ক্ষোভে, ঘৃণায় নাকি দুঃখে তা বোঝা যায় না। চুপচাপ ঘরের ভিতরে চলে
যায় সে।
প্রতিদিন রাতে রাজিয়াকে ঘুম পাড়ায় বিস্মিল,
কিন্তু ঘুমাতে পারে না সে নিজে। অদ্ভুদ এক অস্থিরতা দৌড়ে বেড়াচ্ছে তার মধ্যে। এর কারন
তার জানা নেই। শুধু মনে হচ্ছে, তার নিজের স্বামী কেমন করে এমন হলো, কিম্বা তার স্বামীর
মতো মানুষরা কেমন করে এমন হলো। সত্যি কি আল্লাহ্ এদের শাস্তি দেবেন। ঘুমানোর
চেষ্টা করে সে।
সপ্তাহ খানেক পরে বিলাল কারজাই বাড়ি ফিরলো একদিন।
শহর থেকে সবার জন্য কিছু না কিছু নতুন জিনিস কিনে এনেছে সে। বিস্মিলের জন্য এনেছে
খুব সুন্দর একটা বোরখা। বিয়ের পর স্ত্রীকে প্রথম উপহার। খুশি হয়ে স্বামীর হাত থেকে
নিয়েছে সে সেটা।
রাতের খাবার খেয়ে রাজিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে অনেকক্ষণ। বিস্মিলের শ্বশুর-শ্বাশুড়ি শুয়ে পড়েছে তারও আগে। বিলাল আজ তার স্ত্রীর সঙ্গে একসাথে খাবে
বলে অপেক্ষা করছে। কিন্তু বিস্মিলের তাতে
আপত্তি আছে। কারন সেটা নিয়ম নয়। স্বামীকে খাইয়ে তবেই সে খাবে। তাই সে শান্ত গলায়
বললো-‘আপনি বিস্মিল্লাহ্ করুন, আমি পরে খাচ্ছি’।
বিলাল আর জোর করে নি। বিস্মিল তাকে খাবার দিয়ে
গেলো। খাওয়া শেষ করে স্ত্রীকে খেয়ে নেওয়ার কথা বলে, শুতে চলে গেলো বিলাল।
রাত তখন গভীর। বিলালের শরীরটা অসুস্থ্য লাগছে
হঠাৎ। কেশে চলেছে ভয়ংকরভাবে। বুকের কাছে হচ্ছে ভয়াবহ যন্ত্রনা। বাড়ির সবাইকে ডাকা হয়েছে। কারোর কিছুই করার নেই
বলে মনে হচ্ছে। কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছে এবার বিলালের মুখ থেকে। গ্রামের বদ্যিসাহেব
থাকে অনেক দূরে। শ্বশুরমশাই ইতিমধ্যে আসেপাশের কয়েকজন পড়শিকেও ডেকে এনেছেন। কাউকে
ডাক্তার ডাকতে বলা হলো এবার। কিন্তু বিলালের অবস্থা ধিরে ধিরে খারাপের দিকে চলে
যাচ্ছে। কথা বলার শক্তি হারিয়েছে সে। মা কাঁদছেন। বিস্মিল বুঝে উঠতে পারছে না সে
কি করবে এখন। স্বামীর মাথার কাছে বসে
সে শুধু কেঁদে চলেছে।
ডাক্তার পৌঁছানোর আগেই বিলাল মারা গেলো সে রাতে।
সকাল হলো। সবাই জানলো, দেখলো, শোক প্রকাশ করলো। এমন দুঃখজনক ভাবে বিলাল কারজাইকে
অকস্মাৎ হারিয়ে খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেলো এ গ্রামের। জানাজায় সমাবেত অনেক অপরিচিত
আফগানীকে দেখলো সেদিন বিস্মিল। আরও একবার তার কান্না পেলো স্বামীর খ্যাতিতে।
কিম্বা হয়তো ঘৃণাতে।
এই ক’দিনে বদলে গেছে বিস্মিল রুকসাতের গোটা জীবন।
এই সবকিছুর জন্য সে তৈরী ছিল না কোনোভাবেই। তবে এই ক’দিনে সে নিজের ভিতর এক অদ্ভুদ
শক্তি অনুভব করতে শুরু করেছে। শক্ত তাকে হতেই হবে। এ সবকিছু আল্লাহ্র
ইচ্ছা।
প্রতিদিনের মতো আজও সকাল বেলায় বিস্মিল বসে আছে
তার শ্বশুরমশাইয়ের সাথে। কাব্য়া শেষ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। দুজনেই চুপচাপ। হঠাৎ বিস্মিল
বলে উঠলো-‘আব্বা আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই’। শ্বশুরমশাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে
বললেন-‘কি কথা বল না মা’?
বিস্মিল খুব সহজ ভাষায় বললো-‘আব্বা আমি বিলালের
খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। আমি ওকে মারতেই চেয়েছিলাম। আপনি একে গুনাহ্ বলুন
কিম্বা জেহাদ বলুন, অপরাধী আপনার সামনে’।
কথাটা শোনার পর একদন্ড চুপ থাকলেন উনি। তারপর এক
অশ্রু ছলছল দৃষ্টিতে আশির্বাদের হাত রাখলেন বিস্মিল রুকসাতের মাথায়।
-----সমাপ্ত-----

No comments:
Post a Comment