আজব-ভাবনা
(১) একটি তৈলাক্ত
স্বপ্ন
তিস্তা বেসিনে
প্রাকৃতিক গ্যাস খুঁজে পাওয়ার পর থেকে জলপাইগুড়ির চারুচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে
বিদেশী যাত্রীর ভীড় বেশ বেড়ে গিয়েছে। তাছাড়া পর্যটকদের চাপের জন্য করলার হাউস বোটে
আজকাল বুকিং পাওয়া মুশকিল। আমি অবশ্য ফ্লাইট ধরব না। কলকাতা থেকে বুলেট ট্রেনে লাগে
আড়াই ঘন্টা। কালো নুনিয়া চালের ভাতের সাথে কই মাছের গঙ্গা যমুনা আর বেলাকোবার চমচম
খেতে খেতেই পৌঁছে গেলাম। 'চায়ে চুমুক' বলে একটা নতুন ছবি দেখাচ্ছিল। এখন বেশীর ভাগ
ছবিই এদিকে তোলা হয়। ময়নাগুড়ির জয় জল্পেশ্বর ষ্টুডিও তো আজকাল হলিউডের সাথে পাল্লা
দিচ্ছে। স্পিলবার্গ , ক্যামেরুন, এরা তো আর এমনি দৌড়া দৌড়ি করছে না। আরেকটা প্রবণতা
দেখছি , সাউথ থেকে প্রচুর রোগী আসছে জলপাইগুড়ি মেডিকাল কলেজে চিকিৎসা করাতে ।
দীপ্তি সিনেমা হলটা মাল্টিপ্লেক্স হয়ে যাবার পর আর গরম কালে শার্ট খুলে সামনের সীটে পা তুলে মুভি দেখা যায়না। রাস্তার ধারের রোল , মোমোর দোকান গুলো সব ফুড কোর্টে চলে গিয়েছে। কিছু দিন পরে এলেই নতুন নতুন ফ্লাইওভার দেখে রাস্তা গুলিয়ে যায়। তিস্তা উদ্যানে লাইট এন্ড সাউন্ড প্রোগ্রামে জলপাইগুড়ির ইতিহাস দেখানো হয়। অনেকেই অভিযোগ করছেন নিউজ চ্যানেল গুলো জলপাইগুড়ির সব কিছু নিয়ে খুব মাতামাতি করছে। বিদেশী গাড়ির ভীড়ে পার্কিং পাওয়া যায়না। রোজ কিছু না কিছু হচ্ছেই - খেলা, নাটক , সাহিত্যের আসর । জলপাইগুড়ির বনিক সভার হাতে এখন দিল্লীর চাবিকাঠি। জলপাইগুড়ির বিদ্বজনের ইশারায় দাদাসাহেব আর জ্ঞানপীঠ দেওয়া হয় , তবে এমন না যে সব পুরস্কারগুলো উত্তর বঙ্গেই আসে। তাছাড়া জলপাইগুড়ির স্কুল কলেজেও বিদেশী ছাত্রর ছাত্রীর ভীড়। জলপাইগুড়ির মেয়ে বিয়ে করা এখন স্ট্যাটাস সিম্বল। আমরা ছেলেদের বলি ,"রাস্তার ধরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেবার , রিকশার পিছে সাইকেল নিয়ে ছোটার মজাটা তো বুঝলি না। " ওরা হাসে আর বলে, "কাকু আপনার বয়েস হয়েছে। "
দীপ্তি সিনেমা হলটা মাল্টিপ্লেক্স হয়ে যাবার পর আর গরম কালে শার্ট খুলে সামনের সীটে পা তুলে মুভি দেখা যায়না। রাস্তার ধারের রোল , মোমোর দোকান গুলো সব ফুড কোর্টে চলে গিয়েছে। কিছু দিন পরে এলেই নতুন নতুন ফ্লাইওভার দেখে রাস্তা গুলিয়ে যায়। তিস্তা উদ্যানে লাইট এন্ড সাউন্ড প্রোগ্রামে জলপাইগুড়ির ইতিহাস দেখানো হয়। অনেকেই অভিযোগ করছেন নিউজ চ্যানেল গুলো জলপাইগুড়ির সব কিছু নিয়ে খুব মাতামাতি করছে। বিদেশী গাড়ির ভীড়ে পার্কিং পাওয়া যায়না। রোজ কিছু না কিছু হচ্ছেই - খেলা, নাটক , সাহিত্যের আসর । জলপাইগুড়ির বনিক সভার হাতে এখন দিল্লীর চাবিকাঠি। জলপাইগুড়ির বিদ্বজনের ইশারায় দাদাসাহেব আর জ্ঞানপীঠ দেওয়া হয় , তবে এমন না যে সব পুরস্কারগুলো উত্তর বঙ্গেই আসে। তাছাড়া জলপাইগুড়ির স্কুল কলেজেও বিদেশী ছাত্রর ছাত্রীর ভীড়। জলপাইগুড়ির মেয়ে বিয়ে করা এখন স্ট্যাটাস সিম্বল। আমরা ছেলেদের বলি ,"রাস্তার ধরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেবার , রিকশার পিছে সাইকেল নিয়ে ছোটার মজাটা তো বুঝলি না। " ওরা হাসে আর বলে, "কাকু আপনার বয়েস হয়েছে। "
(২) তিস্তার
ইলিশ
"ভাবতে পারেন করলার ইলিশ বাহান্ন টাকা কিলো !" দীনু বাবুকে সোজা ভাষায় কমপ্লেনিং টাইপ বলা যায়। সকালে আদর্শ হেলথ কমপ্লেক্স এ দেখা | বয়েস পঞ্চাশ ছুঁলে, সকালে আদর্শ হেলথ কমপ্লেক্সএ সবাই আসে। মুখ দেখে দীনু বাবুকে বিশেষ বিরক্ত মনে হলো। "তাও যদি তিস্তার ইলিশ হোত । আমি আর দিনবাজারে যাচ্ছি না।" যাবার দরকারও নেই। এখন জলপাইগুড়িতে সব কেনাকাটা অনলাইন হয়। ভজ বাজারু (মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি স্মরণে ) সাইটে আপনার বাড়ীতে কি রান্না হবে আপলোড করে দিলেই কাজ শেষ, মাপ মত , আনাজ, সবজি মশলা তেল , সব চলে আসবে। মাছের তো ব্যাপারই আলাদা। জলপাইগুড়ির নোবেল পুরস্কার পাওয়া বৈজ্ঞানিক ড : হীতেন রায়ের আবিস্কারের ফলে জলপাইগুড়ির সব নদীতেই ইলিশ ভেটকির গাদা গাদি। দীনু বাবুর মত যারা আছেন, মানে যাদের দরদাম -ওজন দেখে, মাছওয়ালার সাথে একটু খুনসুটি করে, বাজার না করলে হজম হয়না, তাদের মানসিক শান্তির জন্য এবং গবেষকদের উৎসাহে দিনবাজারের একটা অংশ এখনো সংরক্ষিত আছে।
যারা ভাবছেন এখন জলপাইগুড়িতে আসা মানে, ওখানকার বিখ্যাত দুষ্টু- মিষ্টি , রক-এন -রোল, প্রেমলিপি, মাছের মচ্ছব ইত্যাদি খেয়ে, কয়েক কে.জি ওজন বাড়িয়ে যাওয়া , তারা ভুল করবেন। এখানকার 'বেঁচে থাকার গান', 'ঘচাং ফু' ইত্যাদি রেস্তোঁরায় , ঢোকা মাত্র আপনার স্বাস্থ্য রিপোর্ট (স্নোডেন সার্ভার থেকে) দেখে নিয়ে, সেইমত রান্না হবে। দাম একটু বেশী , প্রায় আশি টাকার মত প্লেট , তবে স্বাস্থ্য সচেতন জলপাইগুড়ির লোক সেটা মেনে নিয়েছে।
জলপাইগুড়িতে সফটওয়্যার এ কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, গান গাওয়া বারণ। তাই বসন্তে কোকিল ডাকে, হাওয়ায় ওড়া আঁচল এখনো গানের বিষয় হয়, দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে এখনো মাতামাতি চলে |
(৩) করলা পাড়ের
বেত্তান্ত
"দেখোতো মা, রান্নাটা ঠিক হলো কিনা ?" ভারতীয় সময়ের হিসেবে তখন সকাল, কিন্তু সময়ের নিরিখে চীন তো আড়াই ঘন্টা এগিয়ে । এখন গুগল স্মেল, গুগল ফীল আর গুগল টেস্টের যুগে, জলপাইগুড়ির শান্তি পাড়ায় বসে শাশুড়ী মায়ের এক মিনিট লাগলো , চিনের জিনানে থাকা বৌমাকে গাইড করতে।ব্যাপারটা খুবই সহজ , এখন রান্নার ছবির সাথে তার প্রকৃত স্বাদ গন্ধ ও পাঠিয়ে দেওয়া যায়। ছেলের বউ চিনে হলেও বাংলা বেশ ভালো জানে। যে বার প্রথম দেখা হয়েছিল সেবার বেনু দত্ত রায়ের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়ে অবাক করে দিয়েছিলো ।
"গন্ধ তো ঠিকই আছে, বাবাই নুনটা একটু কম খায়।"
প্রথম যেদিন রূপমায়া সিনেমা থিয়েটারে , জলপাইগুড়ির ড:বুধাদিত্যের আবিস্কৃত, শব্দ , আলোর সাথে মিশিয়ে স্বাদ - গন্ধ যুক্ত ছবি 'রসে তোমায় চোবাবো না' দেখানো হলো , সেদিন সে কি উত্তেজনা। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব শ্রীমতি সংযুক্তা রায় , নি:স্ব ব্যাঙ্কের প্রধান নোবোমা তো ছিলেনই , বৈজ্ঞানিক স্বয়ং ছিলেন। দৈনিক জনমতের সমালোচক ছিদ্রান্বেষী বকশী লিখলেন, "স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, এক অপূর্ব সৃষ্টি । " এখন এসব ফিচার ছাড়া মোবাইলই হয়না তা নয় , তবে জলপাইগুড়িতে তো ভাবাই যায়না। এখন প্রেমিকাকে তাজা লাল গোলাপ পাঠালে , তার সাথে ভালোবাসার সুগন্ধ , আলতো ছোঁয়া , সব পৌঁছে যায়। ভালোবাসা পৌঁছানোর প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি।
আজও মহালায়ায় সারারাত বাজীর আলো দেখা যায় , আওয়াজ পাওয়া যায়। আজও লোকে মহালয়ার সকালে রেডিও তে মহিষাসুর মর্দিনী শোনে , সেই আশ্বিনের শারদ প্রাতে , সেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র , সাথে ধুপ- ধুনো- ফুলের গন্ধ, মায়ের প্রসাদের স্বাদ নেহাতই বাড়তি পাওনা।
(৪) আলাদিন
আলাদিন বাজারে
আসার পর আলিবাবার গুরুত্ব অনেকটাই কমে এসেছে| আরব্য রজনীর মায়াবী গল্প নয় , একেবারে
আজকের বেচা কেনা দুনিয়ার সত্যি | আলিবাবার মালিক
জ্যাক মা , নিজে, আলাদিনের চেয়ারপারসেন অন্তরা রায়ের জলপাইগুড়ির হাকিম পাড়ার
বাড়িতে এসে ব্যবসাটা কিনতে চেয়েছিলেন | হংকংয়ে জ্যাক মার একটা উনিশ কোটি মার্কিন ডলারে
কেনা একটা বড় বাড়ি আছে |উনি চেয়েছিলেন সেখানেই মিটিংটা করতে | শান্তি পাড়ায় অন্তরা
দেবীর বাড়িটাও কম বড় নয়। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
যেন সত্যি কোনো জাদু প্রদীপের ছোঁয়া রয়েছে। অন্তরাদি ওনাকে বোরলি মাছের ঝোল , পাবদার ঝাল ,
ছানার পোলাও খাইয়ে , উল্টে বিনীত ভাবে ওনার পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসাটা কিনতে চাইলেন
|
জলপাইগুড়ির চারুচন্দ্র
ইন্টার ন্যাশনাল বিমান বন্দরে সাংবাদিক সন্মেলনে , জ্যাক মার মুখের সেই বিখ্যাত হাসি
মুছে গিয়েছিল, কিন্তু মুখে অক্ষয়দার নাতির দোকানের পান তখনও ছিল।
সবাই যদি ভাবেন
মোহিত নগরের বিশাল শিল্প নগরী বা ধুপগুড়ির ইস্পাত নগরীর ভরসায় আলাদিনের আজ এই বাড় বাড়ন্ত
তাঁরা ভুল করবেন।
আজ জলপাইগুড়ির
চা ,দার্জিলিং, শ্রীলঙ্কাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে , মন্ডল ঘাটের শাড়ি এখন নারীর স্বপ্ন , করলার
বক্ষে হাউস বোটের বুকিং পেতে মাস খানেক অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আলাদিনের সাফল্যের
পিছে অন্তরা রায়ের কাজের মাসি মোক্ষদাদির নাকি বিরাট হাত আছে | তবে মোক্ষদা মাসিকে
যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, তখন মাসি এক গাল হেসে বলেছিল, " সে অনেক বেত্তান্ত
, বলতি নজ্জা করে "
এবার নির্বাচনের
আগে ডেভিড ক্যামেরুন , বলেছেন, লন্ডনকে জলপাইগুড়ি বানাবেন| তাই শুনে নাকি অর্ণব গোস্বামীও দু মিনিট চুপ করে
গিয়েছিল।
দারুন ভাববা। হতেই পারে এমন।
ReplyDeleteআমরাও তিস্তা হতে চাই, কবে যাবেন আবার?
ReplyDeleteআজব ভাভনা কেন
ReplyDeleteএ তো এক্কেবারে সঠিক ভাবনা
আজব ভাভনা কেন
ReplyDeleteএ তো এক্কেবারে সঠিক ভাবনা